Friday, July 24, 2020

টায়ার রিসর্ট

  অজানাকে জানবার অচেনা কে চেনবার ইচ্ছা আমাকে বরাবর তারা করে তাই কোন কিছু না ভেবে আজ বেরিয়ে পড়লাম। অনেক অনেক দিন বাড়িতে থাকতে থাকতে কেমন যেন জড়পদার্থ হয়ে গেছি তাই আজ ঘুম থেকে উঠেই ঠিক করি না আজ কোথাও একটা যাব যেমন ভাবা তেমনি কাজ ঠিক করলাম হাতের কাছে হারিপাল ওখানেই যাই কারন ওখানকার এক গ্রাম দারহাট্টা সেখানে এখন অনেক বড় কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে তাই জায়গা ঠিক করে সকাল ৭.১০ সারথিকে নিয়ে বেরিয়ে পরলাম গন্তবের দিকে। যেহেতু আমার ছাত্র জীবন কেটেছে হারিপাল গোপীনগর ও গুরুদয়াল স্কুলে তাই সেখানে অনেক নস্টালজিয়া জরিয়ে আছে আমার মনে। বাড়ি থেকে জাইগা টা যেতে আমার সময় লাগল মাত্র ১ ঘণ্টা মত।

  ১৬৭৭ এ জমিদার সিংহরায় পরিবারের তৈরি রাজ রাজেশ্বর বিষ্ণু মন্দিরটি হল আসল আকর্ষণ। এছাড়াও তিনটি শিব মন্দির ও দ্বারিকাচণ্ডীর মন্দির আর এক দর্শনীয় স্থান। পোড়ামাটির মন্দিরগুলি দ্বারহট্টকে একটি শান্তিপূর্ণ ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তোলে। এই জায়গাটির প্রধান আকর্ষণগুলি হ'ল এর পোড়ামাটির মন্দির। দেবীর নামে নাম হয়েছে গ্রামটির। তবে পুরানো মন্দির আজ আর নেই নতুন করে মন্দির গুলি হয়েছে ২০০৬ ও ২০০৮ গ্রামবাসীদের সহযোগিতা নিয়ে।

  কি ভাবছেন এতো সুন্দর ছবির মত একটা গ্রামে একদিন থাকতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখানে থাকার কোন ব্যাবস্থা নেই। আরে মন খারাপ করছেন কেন? না এত দিন এখানে থাকার কোন ব্যাবস্তা ছিল না ঠিকই তাই আমার আপনার সকলের কথা মাথাই রেখে এই গ্রামেরই ছেলে আমাদের সকলের প্রিয় প্রবীর সিনহা দা মানে আমাদের প্রবীর দা মানে সুন্দরবন গেটওয়ে রিসোর্ট এর কর্মকর্তা একটি অসাধ্য সাধনের কাজে লেগেছেন।একটি রিসোর্ট বানাছেন যেটি সম্পূর্ণ গাড়ির টায়ার ও মাটি দিয়ে তৈরি। প্রথমে শুনে বিশ্বাস করতে পারিনি নিজের কান কে তাই ছুটে গিয়েছিলাম সেই কর্মকাণ্ড দেখতে আজ সকালে। সত্যি কি সুন্দর চিন্তা ভাবনা মানে টায়ার দিয়ে রিসোর্ট এতো কল্পনাই করা কঠিন দাদা সেটা বাস্তবে তুলে ধরছে। না এখুনি চালু হয় নি কাজ চালু আছে হয়তো আগামী অল্প দিনের মধ্যে চালু হয়ে যাবে। কথা দিলাম দারুন উপহার অপেক্ষা করছে আপনাদের জন্য। আপনি চাইলেই এখান থেকে আরও একটি দর্শনীয় স্থান দেখে নিতে পারেন আঁটপুর মাত্র ৬ কিলোমিটার।

কিভাবে যাবেন্
কলকাতা থেকে দূরত্ব মাত্র ৫০ কিমি মতো। কলকাতা থেকে ডানকুনি হয়ে মশাট। ওখান থেকে গজাড়মোর হয়ে আসতে পারেন না হলে কলকাতা থেকে ডানকুনি হয়ে দুর্গাপুর রোড ধরে সিঙ্গুর হয়ে আসতে পারেন। সারা বছর আপনি এখানে আসতে পারেন কোন অসুবিধাই নেই।


থাকা খওয়া
বর্তমানে এখানে থাকার কোন জাইগা নেই তাই আপনি আসতে চাইলে ঘুরে চলে যেতে হবে। হয়তো কিছু মাসের মধ্যে থাকার রিসোর্ট টি হয়ে যাবে। খাবার জন্য আপনাকে কাছাকাছি হরিপালে বা গজাড়মোরে কিছু রেস্টুরেন্ট পাবেন।

ছবি ও লেখাঃ কলমে দেব........














Wednesday, July 22, 2020

লাল কাঁকড়া বিচ

যদি একটা দিন আপনি বা আপনারা এক সঙ্গে লাল কাঁকরা দের সাথেই বীচ ক্যাম্প এ কাটাতে চান তো আপনার জন্য আছে এই লাল কাঁকরা বীচ। নিরিবিলি সমুদ্র সৈকতে লাল কাঁকড়া দের কান্ড কারখানা। সাথে সমুদ্রের ধারে রাতের খোলা আকাশের নীচে টেন্টে রাত কাটানোর রোমাঞ্চ অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকতে চান তো চলে আসতেই হবে আপনাকে এখানে।

মন্দারমণি পশ্চিমবঙ্গের দিঘার কাছে একটি পর্যটন স্থান, যেখানে সমুদ্র আকাশের সাথে মিলিত হয়। ... মন্দারমণির কাছে একটি অপরিচিত সৈকত রয়েছে, যার নাম দক্ষিণ পুরুষোত্তমপুর। এই গ্রামটিতে পাবেন একটি সুন্দর সমুদ্র সৈকত যেখানে লক্ষ লক্ষ লাল কাঁকড়া পাওয়া যায় ।

আপনি যদি সপ্তাহান্তে কলকাতার অদূরে একাকী, আদিম সমুদ্র সৈকত ঘুরে দেখার জন্য প্রস্তুত থাকেন তবে দক্ষিণ পুরুষসৌতমপুর বিচ আপনার জন্য উপযুক্ত জায়গা।নগর জীবনের দাবদাহ থেকে অনেক দূরে এই নির্জন সৈকত ধরে হাঁটা এক স্বর্গীয় অভিজ্ঞতা।পর্যটকদের ঝাঁক থেকে বিচ্ছিন্ন এই প্রশান্ত সৈকতে প্রচুর অফার রয়েছে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হ'ল লাল কাঁকড়া। তারা লক্ষ লক্ষ লোক খুঁজে পেয়ে সমুদ্র সৈকতকে লাল কার্পেটের মতো করে তোলে। এই কারণেই এই সৈকতটি "রেড ক্র্যাব বিচ" নামেও পরিচিত। যদিও কাঁকড়াগুলি সৈকতে খেলছে তবে তারা চারপাশে কোনও শব্দ অনুভব করার সাথে সাথে তাদের গর্তগুলিতে তারা লুকিয়ে পরে।

যাবেন কি ভাবে...

এখন আর এই প্রশ্ন আর মনে হয় কারোর অজানা নয় তাই র বললাম না। কারণ মন্দার মনি যান নি এমন লোক কিন্তু পাওয়া যাওয়া দুষ্কর।

থাকবেন কোথায়

আছে না আমাদের ক্যাম্প আপনাদের জন্য অপেক্ষায়। আমরা তো আছি আপনাদের জন্য। থাকা খাওয়া নিয়ে দিন প্রতি মাত্র ১২০০ টাকায়। আর কি চাইছেন মেনু তে কি থাকবে আরে তার জন্যই তো আসতে হবে এখানে না হলে পস্তাতে হবে....

কোনো কিছু না ভেবে চলে আসুন আগামী ০১.০৮.২০২০ থেকে আবার আপনাদের জন্য খুলে দেয়া হচ্ছে ক্যাম্প। আরে না না চিন্তা করবেন না সমস্ত রকম সরকারি বিধি নিষেধ মেনেই আমরা আপনাদের রাখবো

বিস্তারিত জানতে একটি ফোন করুন এখন তো সব ফ্রী কল ৯৮৩১১৫৯৪০১ / ৮৭৭৭৭৪১৬৭৬....

ফটো : সৌরভ ও ক্যাম্প। কলমে দেব।










Tuesday, July 14, 2020

দোলাডাঙ্গা

পুরুলিয়া নাম টা শুনলেই মনে আসে অযোধ্যা পাহাড় না হলে বরন্তী এই দুটি নাম। আজ আমি আপনাদের সাথে একটু অন্য একটি নাম এর পরিচয় করিয়ে দেবো হয়ত অনেকে শুনে থাকবেন আবার হয়ত অনেকেই শোনেন নি তবে কথা দিলাম জাইগা টা দেখার পর একবার হলেও আপনার মনে হবে যাই ঘুরে আসি।

যে জাইগা টার কথা বলব সেটির নাম দোলাডাঙ্গা। নামটি খুব পরিচিত নাও হতে পারে আবার পারেও। পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার গ্রামীণ অঞ্চলে অবস্থিত একটি ছোট্ট গ্রাম। মুকুটমণিপুর বাঁধের ঠিক বিপরীতে সবুজ বনে এই ছোট্ট গ্রামটি, ছোট্ট জনপদ, সুন্দর কংসবতী হ্রদ এবং উপজাতীয় জীবনের সরলতা যদি পেতে চান আপনাকে এখানে আসতেই হবে একবার। প্রকৃতির নির্মলতা ছাড়াও, এই দোলাডাঙ্গা পুরুলিয়ায় আরও অনেক কিছু রয়েছে। লেকে নৌকো চলা থেকে শুরু করে উপজাতি নৃত্য এবং জঙ্গলের হাঁটাচলা দোলাদঙ্গা আপনাকে নতুন কিছু অনুভব করাবেই করাবে।এটি সোনাঝুরি বনের মাঝখানে অবস্থিত চারিদিকে শুধু জঙ্গল আর লেক. লেকের মধ্যে আবার অনেক দ্বীপ. দূরে দিগন্তে হাতির পিঠের মতো উঁচু-নিচু পাহাড়. খোলা আকাশ আর আকাশের নিচে বিস্তীর্ণ মালভূমি। বাইরের দিকে তাকালেই মন ভরে যাওয়ার মতো প্রাকৃতিক সৌন্দৰ্য. আকাশের রঙে মিলেমিশে লেকের জলের রঙ. কখনো নীল, কখনো লাল, কখনো ভয়ঙ্কর কালো কুচকুচে। চারিদিক. পাখির কলতান আর হাওয়ার শব্দ। এছাড়াও চাঁদনি রাতে এই জঙ্গলের মাঝখানে কংসবতী হ্রদের সৌন্দর্য এমন একটি জিনিস যা অবশ্যই আপনার নিঃশ্বাস কেড়ে নিতে পারে।

যাবেন কিভাবেঃ

কলকাতা থেকে গাড়িতে বা বাসে-ট্রেনে বাঁকুড়া. বাঁকুড়া থেকে খাতড়াগামী যেকোনো বাসে নামতে হবে হাতিরামপুর. হাতিরামপুর থেকে যেতে হবে মানবাজার. মানবাজার বাস স্ট্যান্ড থেকে ই-রিক্সা বা গাড়িতে করে দোলাডাঙ্গা গ্রাম.

রুট 1: কলকাতা থেকে বাঁকুড়া (170 কিমি) - বাঁকুড়া থেকে মানবাজার (60 কিমি)- মনবাজার থেকে দোলাদঙ্গা (12 কিমি)

রুট 2: কলকাতা থেকে পুরুলিয়া (250 কিলোমিটার) - পুরুলিয়া থেকে মনবাজারে (৫৩ কিমি) - মনবাজার দোলাদঙ্গা (12 কিমি)

কাছাকাছি কোথাই কি দেখতে পারেন

মাথাবুরু পাহাড় (অযোধ্যা): 78 কিলোমিটার।

ঝিলিমিলি: 50 কিমি।

বিষ্ণুপুর: 100 কিলোমিটার।

গারপঞ্চকোট: 95 কিমি।

মুকুটমণিপুর : 15 কিলোমিটার (রুটে ফেরি রয়েছে)

তথ্য ও ফটো অয়ন ও গুগল      ✍️✍️✍️ দেব....











Sunday, July 12, 2020

■■||পাতি নয় 'পাতরাতু'||■■

    পৃথিবীতে দেখার জিনিসের কোনও শেষ নেই আর সেটা যদি ঘোরার জাইগা হয় তাহলে তো কথাই নেই। আজ এই রকম একটি জাইগার কথা আপনাদের বলবো এক ঝলক দেখলে 'জুলুক' বলে ভুল হতেই পারে এবং সেটা স্বাভাবিক ও! সেই একই রাস্তার দুধারে সবুজে মোরা প্রশস্ত পথ, একই এঁকেবেঁকে এক মনে চলা রাস্তা , যাকে আমরা 'জিগজ্যাগ রোড' বলে জানি- সেই সমস্ত হুবহু এক! সব এক হলেও আজ যে জায়গাটার নাম আপনারা জানবেন তা শুনলে বিষম খেতেই পারেন!  কারন জায়গাটি নর্থ বেঙ্গল তো দূরে থাক তার আশেপাশেও না। আজকের গন্তব্য হল 'পাত্রাতুভ্যালি'।

   পাত্রাতুভ্যালি ঝাড়খন্ড জেলায় অবস্থিত বর্তমান সময়ে ভীষন জনপ্রিয় একটি টুরিস্ট স্পট! রাতু থেকে পাত্রাতু যাওয়ার রাস্তায় পিথুরিয়া পার করলেই চোখের সামনে খুলে যাবে একের পর একর চমক! পুরো রাস্তা জুড়ে রয়েছে রূপকথার মত সাজানো জায়গা দৃশ্য! এতটাই মন মহোক যে সেই পথ আপনাকে টেনে নিয়ে যেতে বাধ্য করবেই সামনের দিকে! যত এগোবেন মনে হবে জুলুক কিংবা খান্ডালা-লোনাওয়ালা- পুনে রোড ধরে এগিয়ে চলেছেন আপনি। মনেই হবেনা যে এইখান থেকে রাচি মাত্র 35 কিমি দূরেই!  রোমাঞ্চকর অনুভূতি পেতে গেলে ঘুরে আসতে পারেন পাত্রাতু ভ্যালি! উপর থেকে ছবিতে দেখলে মনে হবে জটের মতন পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে রাস্তা চলেগেছে সামনের দিকে আর সেই রাস্তার শেষে গেলে এক অদ্ভুত সুন্দর ভিউএর সাক্ষী থাকবেন তা নিশ্চিত! 

    এইখানে গেলে 'পাত্রাতু লেক রিসোর্ট' ঘুরে আসতে পারেন। মাত্র 20 টাকার বিনিময়ে টিকিট মিলবে। ভেতরে রয়েছে পাতরাতু লেক। নৌকা বিহারে যেতে মন্দ লাগবেনা। চিলকা লেক যারা গেছেন তারা হয়তো ভাবতে পারবেন 'আবার লেক! গলা কাটবে' ! একদম না বিশ্বাস করুন! খুব সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে আরো বেশি সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন।পাহাড় বেষ্টিত এখানে লেক। শীত কালে না না পরিযায়ী পাখি এসে জানান দেয় শীত এসেছে! পিকনিক স্পট হিসাবে এই জায়গাটি খুব নজর কেড়েছে। তাছাড়া না না ধরনের স্পোর্ট এক্টিভিটির সুযোগ রয়েছে। ছোট থেকে বড় সবার জন্যই কিছুনা কিছু আছে। তাছাড়া পাতরাতু ড্যাম আছে। দেখে নিতে পারেন।

 কখন যাবেন?
নভেম্বর থেকে মার্চ মাস ভীষণ উপযুক্ত সময় এইখানে যাওয়ার। তবে বর্ষা কালে গেলেও একদম আলাদা রকমের এবং অদ্ভুত সৌন্দর্যের সাক্ষী থাকবেন তা না বললেই নয়। কারন একদিকে মেঘলা অবহাওয়া আর বৃষ্টির জলে বেড়ে ওঠা সবুজ গাছপালার দাপট আপনার মন কাড়বেই!


























চুইখিম

চুইখিম বাগরাকোট থেকে লাভা লোলেগাঁও যাওয়ার পথে পাহাড়ের কোলে সবুজে ঢাকা একটি ছোট্ট গ্রাম হলো চুইখিম। শিলিগুড়ি থেকে ওথলাবাড়ির সাড়ে চার কিলোমিটা...