Showing posts with label নতুনেরখোজে. Show all posts
Showing posts with label নতুনেরখোজে. Show all posts

Tuesday, December 8, 2020

চুইখিম

চুইখিম
বাগরাকোট থেকে লাভা লোলেগাঁও যাওয়ার পথে পাহাড়ের কোলে সবুজে ঢাকা একটি ছোট্ট গ্রাম হলো চুইখিম। শিলিগুড়ি থেকে ওথলাবাড়ির সাড়ে চার কিলোমিটার আগে বাম দিকে টার্ন নিয়ে আড়াই কিলোমিটার গেলে পাবেন বাগরাকোট হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল (বাগরাকোট)। বাগরাকোট হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল থেকে ডানদিকে টার্ন নিয়ে ঘন জঙ্গলের বুকচিরে সামান্য অফরোডিং করে পৌঁছে যাওয়া চুইখিম। ৫২ কিলোমিটারের মত সম্পূর্ণ যাত্রাপথ। পথের ধারে পাবেন দেখা লিস নদীর, তবে ছুঁতে পারবেন না। দূর থেকে পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে বয়ে চলা লিস দেখেই আবারও এগিয়ে চলা এবং পৌঁছে যাওয়া গন্তব্যে। কুলিম্পংয়ের উপত্যকা এবং হিমালয়ের কুয়াশা দ্বারা চুইখিম লুকিয়ে আছে, চুখিম উত্তর বঙ্গের এক অজানা রত্ন যা পাহাড়ী দৃশ্য, সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত, ট্রেকিং, মাউন্টেন ভিউ, পাখি এবং প্রজাপতি পর্যবেক্ষণ সহ প্রসারিত একটি অ্যাড্রেনালাইন ভরা অ্যাডভেঞ্চারে গর্বিত, জলপ্রপাত, গভীর জঙ্গল, প্রজাপতি প্রেমীদের জন্য একটি স্বর্গ, ভিলেজ হাইকিং।

আপনি যদি সিনেমার মতো বনের মধ্যে লুকানো জলপথ এবং উঁচু জলপ্রপাত দ্বারা ঘেরা এবং ট্রেকিংয়ের বিষয়ে উন্মাদ হন, তবে উত্তরবঙ্গে চুইখিম ছাড়া আপনার আর কোনও দরকার নেই। চুইখিম তার বিভিন্ন প্রজাপতি-পতঙ্গ এবং বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদের সংমিশ্রনের জন্য শিক্ষার্থী উদ্ভিদবিদ এবং গবেষকদের কাছে একটি বিশেষ তাত্পর্য প্রাপ্য। এই ক্ষুদ্র পার্বত্য গ্রামগুলির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনার আত্মাকে পূর্ণ করবে। এটি চারপাশে হিলস্লোপস এবং ঘন বন দ্বারা বেষ্টিত।

চুইখিম হলো পাখি এবং প্রজাপতি-মথেদের স্বর্গরাজ্য। ছাত্র-ছাত্রী এবং বোটানিস্টদের কাছে চুইখিম এক আলাদা মাহাত্বের দাবিদার এর রকমারি প্রজাপতি-মথেদের এবং নানা প্রজাতির উদ্ভিদ সমাহারের জন্য। চুইখিমের বিশেষত্ব এখানকার মনোরম প্রকৃতি, সানসেট ভিউ পয়েন্ট, স্থানীয় সংস্কৃতি, খাবার এবং জঙ্গল। চুইখিমের জঙ্গলে বার্ড ওয়াচিং, বাটারফ্লাই এবং মথ ওয়াচিং এর জন্য প্রতিবছর উৎসুক প্রকৃতিপ্রেমী, বিশেষজ্ঞ এবং ছাত্র-ছাত্রী রা ভিড় করে থাকেন। এছাড়াও চুইখিমের সাথে জুড়ে আছে লোকমুখে প্রচলিত নানান উপকথা, লোকগাথা এবং রোমাঞ্চকর সব কাহিনী। যা আপাত কল্পনায় কতকটা আষাঢ়ে লাগলেও এমন নিভৃত নিরালায় সদ্য জ্বালানো গনগনে ক্যাম্পফায়ারের পাশে বসে অবিরাম ঝিঁঝি র ডাকের মাঝে হয়ত আপনার শরীরের শিহরণ জাগাবে। এছাড়াও আছে এখানকার মানুষ, তাঁদের বেঁচে থাকা, উত্থান-পতনের জীবনকাহিনী। পাহাড়ের কোলে পাহাড়িয়া হয়ে সদ্য আগুন দেওয়া ধোঁয়া ওঠা উনুনের পাশে বসে আপনিও শুনতে পারেন প্রকৃতির সাথে সখ্যতা করে বেঁচে থাকা কর্মঠ মানুষগুলোর সরল সাধারণ জীবনযাত্রা, জীবিকা, উপার্জন, প্রেম-ভালোবাসার সুখ দুঃখের কাহিনী। হয়ত অবাক হবেন আপনি, নিজের অজান্তেই ভালোবেসে ওদেরই একজন হয়ে গিয়ে পাহাড়িয়া হয়ে বাসা বাধঁতে মন যাবে আপনারও চুইখিমের কোলে।
দূর পাহাড়ের কোলে উদিত সূর্যের প্রথম কিরণ গায়ে মেখে ব্ল্যাক টি র কাপ হাতে নিজের রুমের বাইরে এসে দাঁড়ালেই আপনাকে সুপ্রভাত জানাবে ভোরের পাখিরা। বেলা বাড়লে ভিলেজ ওয়াকে বেরিয়ে গ্রামের পাথুরে পথ ধরে পায়ে পায়ে হেঁটে যেতে পারেন। পরিচিত হবেন এখানকার মানুষের রুজিরুটি, কালচার, জীবন বৈচিত্রের সাথে। হয়তোবা কোনো খামারের পাশ দিয়ে যেতে যেতে পাকা কফি বিনস বা গোলমরিচের থোকা দেখে দাঁড়িয়ে পরতে পারেন। জঙ্গলের পথ আপনাকে প্রত্যহ রুটিনমাফিক জীবনযাত্রা থেকে মুক্তির দিশা দেখাবে। শরীর মন মুক্ত প্রকৃতির মাঝে তাজা হয়ে উঠবে।
হলিডে ডেস্টিনেশন হিসাবে পাহাড়ের কোলে মুক্ত প্রকৃতির মাঝে নির্জঞ্ঝাট কয়েকটা দিন কাটানোর জন্য চুইখিমের কোনো বিকল্প নেই। চুইখিমের অনন্য সৌন্দর্য আপনার মন কাড়তে বাধ্য।
চুইখিম একটি পরিবেশ বান্ধব গ্রাম। একজন দায়িত্বশীল ভ্রমণকারী হিসাবে আমাদের প্রত্যেকেরই উচিৎ এই গ্রাম এবং পরিবেশকে দূষিত না করা এবং দূষণমূলক সমস্ত কাজ থেকে বিরত থাকা। 















Monday, September 21, 2020

সিটং একটি লুকনো রত্ন

    আজ কিন্তু সিটং নাম শোনেন নি এমন বাঙালি খুঁজে বের করতে হবে। আমি যখন প্ল্যান করেছিলাম ২০১৮ সালে তখন প্রথম নাম টি শুনে কৌশিক বাবু বলে ছিলেন এটা আবার কোন খানে। আজ যখন লিখতে বসছি নতুন করে কিছু বলার নেই সিটং এর ব্যাপারে তাও যারা জানেন না তাদের একটু জানাবার চেষ্টা করছি।।

পাহাড়ে ঘেরা, সবুজে ঢাকা এক সাজানো এক লেপচা জনপদ। নাম সিটং। কার্শিয়ং মহকুমার এই ছোট্ট এলাকাই এখন পর্যটন মানচিত্রের নতুন আকর্ষণ। রয়েছে সাধ্যের মধ্যে হোম স্টে পরিষেবাও । আর এখান থেকেই আপনি পাবেন পাহাড়ের সবথেকে মহার্ঘ , ১৮০ ডিগ্রি কাঞ্চনজঙ্ঘা র অনুপম দৃশ্য । আপনি নিউ জলপাইগুড়ি থেকে মিরিক হয়ে আসতে পারেন অথবা কার্শিয়ং হয়ে দিলারাম থেকে ডানদিকে বাঁক নিয়ে । ঘণ্টা দুয়েক লাগবে ।

প্রথমদিন পৌঁছে একটু হেঁটে ঘুরে নিন আশপাশের লেপচা গ্রাম , পাঁচ পোখরি , নামথিং পোখরি আর একটু ছোট করে জঙ্গল ট্রেক । সিটং থেকে আপনি গাড়ি নিয়ে ঘুরে নিতে পারেন কলিঝোরা, মনে রাখতে হবে সিটং কমলালেবু গার্ডেনের জন্যে বিখ্যাত । তাই গার্ডেন মিস করলে সেটা অন্যায়। তবে কোন সিজনে যাচ্ছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ। মংপু ( খোঁজ নিয়ে যাবেন বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে), চার্চ , লাটপঞ্চার, আলধারা ভিউ পয়েন্ট, মহানন্দা ওয়াইল্ড লাইফ সঙ্কচুয়ারি ( ভোর বেলা না গেলে পাখি দেখা হবে না) রিয়াং রিভার এর ওপর যোগীঘাট ব্রিজ ,এই জায়গা গুলো এখন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে পক্ষি দর্শনের জন্যে । মিনিট দশেক নেমে গেলে পাবেন কমলালেবুর বাগান ( শীতকালে )। আপনাকে স্বাগত জানাবে গাছে ঝুলে থাকা , থোকা থোকা কমলালেবু ।

তবে কি এই পূজোর ছুটিতেই যাদের টিকিট আছে কিন্তু জায়গা ঠিক করতে পারেন নি , চলুন এই অরেঞ্জ ভ্যালিতে । ফোন করুন বুকিং এর জন্যে যাযাবর দেব কে @ ৮৭৭৭৭৪১৬৭৬ @ 9831159401)
থাকা খওয়া দিন প্রতি ১২৫০/-












Friday, August 21, 2020

লামাগাঁও

 আপনি কি পাহাড় বলতে দার্জিলিং, সিকিম, ছাড়া নর্থ বেঙ্গলের অন্য অফ বিট কোন জায়গার কথা ভাবছেন কিন্তু ঠিক করতে পারছেন না কোথায় যাবেন তাহলে আপনি একদম ঠিক পোস্ট দেখছেন। আজ আমি পরিচয় করিয়ে দেবো আপনাদের একটি সুন্দর গ্রামের যেটি দার্জিলিং থেকে মটে ৪০ কিমি দূরে অবস্তিত

লামাগাঁও উচ্চ পর্বতমালার পরিসরের মধ্যে অবস্থিত একটি ছোট্ট সুন্দর গ্রাম যা দার্জিলিং জেলার -বিজনবাড়ি উন্নয়ন ব্লকের অন্তর্গত, দার্জিলিং শহর থেকে প্রায় ৩৫-৪০ কিলোমিটার দূরে এবং প্রায় ১২ বিজনবাড়ি থেকে কিলোমিটার।এই জায়গাটি স্থানীয়ভাবে জন্মানো উদ্ভিদ 'ইস্কুস' এর জন্য বিখ্যাত যা উপত্যকার অন্যতম প্রধান চাষ। ইস্কাস ছাড়াও এলাচ লামাগাঁওয়ের স্থানীয় কৃষকরা চাষাবাদ করেছেন।শান্তি ও শান্ত পরিবেশের জন্য আপনার নিখুঁত গন্তব্য এবং এটি টাঙ্গলু এবং সান্দাকফু কেও সংযুক্ত করে সামসু এবং ধোত্রিয়া গ্রামের এর মাধ্যমে।

লামাগাঁয়ে থাকার সবচেয়ে ভাল জায়গা হ'ল হোমস্টে যা লামাগাঁও গ্রামের মধ্যে অবস্থিত। হোম স্টে টি সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানের পাদদেশে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ট্রেকিং, হাইকিং, অফ-রোড ড্রাইভ, ফিশিং, বার্ডিং এবং স্কাইওয়াচিং ইত্যাদির মতো পরিষেবা সরবরাহ করে ..লামাগাঁওয়ের সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ হোমস্টে মূল দার্জিলিং শহর থেকে 33 কিলোমিটার দূরে।একটি সুন্দর ঘরোয়া পরিবেশের সাথে তার উদ্দেশ্যটি পরিবেশন করে। আপনি হোমস্টেরের চত্বর থেকে পর্বতমালা উপেক্ষা করে চোখ বন্ধ করতে ভুলে যাবেন।লামগাঁয়ে এই আরামদায়ক অবস্থানটি আপনাকে নিখুঁত মায়াময় প্রশান্তি এবং মন এবং আত্মার শান্তি দেবে। আধ্যাত্মিক এবং সাংস্কৃতিক ছোঁয়ায় আতিথেয়তার মতো বাড়ির সর্বোত্তম পরিবেশনা প্রদান করা হোমস্টে তার ধরণের বিজনবাড়ু উপত্যকার অন্যতম সেরা। দর্শনার্থীরা আপনার পছন্দ এবং স্বাদ অনুসারে ঘরে রান্না করা traditionalতিহ্যবাহী খাবার উপভোগ করতে পছন্দ করবেন।

দার্জিলিং থেকে লামাগাঁওয়ের জন্য স্থানীয় দৈনিক ট্যাক্সি পরিষেবা পাওয়া যায়। প্রতি ব্যক্তি ১২০ জন বা যেকোন টাটা স্প্যাসিও / টাটা সুমোর মতো গাড়ি রিজার্ভ করতে পারবেন প্রায় ২,০০০ টাকায়। 1800 - 2000. যা দার্জিলিং থেকে সহজেই পাওয়া যায়।

ছবি- হোটেল
✍️✍️ -দেব




















Thursday, August 13, 2020

পেনাং এর প্রনাম

নেশা টাকে পেশা করার পর থেকে পাহাড়ের বুকে ডানা মেলে ওড়ার নেশা টা আমাকে ছেড়ে যেতে চায় না আর আমিও যেতে দিও না, সেটা আপনারা জানেন,কালিমপঙ জেলার বিভিন্ন ছোট ছোট সুন্দরী গ্রামের খোঁজ আপনাদের অনেক দিয়েছি, কিন্তু আজ যে গ্রামের খোঁজ দিতে চলেছি সেটা অধিকাংশ পাহাড় প্রেমী মানুষের কাছে আজও অধরা, পাহাড়ের বিভিন্ন অনাচেকানাচে ঘোরার নেশায় একদিন হঠাৎ করে এক পাহাড়ি বন্ধুর বাইকে করে পেয়েছে যাই কালিমপঙ শহর থেকে 22 কিলোমিটার দূরে এক অচেনা সুন্দরী গ্রাম পেনাং , পাহাড়ী বন্ধু কে সাথে নিয়ে উড়ে চলেছি অজানার উদ্দেশে, হঠাৎ চোখে পড়ে এক নির্জনে চারিদিক ধান ক্ষেত ও ওক পাইন ফার গাছের সারির ফাঁকে উকি দিচ্ছে মির্মল একটা ছোট্ট গ্রাম,, যেখানে বসতি বলতে মাত্র 25/30 টি ঘরের বাসিন্দা,,তার মধ্যেই চোখে পড়লো সুন্দর সাজানো একটি রঙিন ঘর,, খোঁজও করলাম সেটি একটি হোমস্টে, যেটা আজও পাহাড় প্রেমী দের কাছে পৌঁছে দিতে পারেনি তাঁরা,,এদের সাথে কথা বলে থেকে গেলাম একটি রাত এই ছোট্ট নীড়ে,,, আপ্যায়ন কথা টা এদের জন্য খুব ছোট কথা,যেন মনে হলো তাদের কাছে তাদেরই কোনো নিকট ভাই বা দাদা এসেছে,,, একটা নির্ভজাল গ্রাম অল্প সংখ্যক মানুষ চারি দিকে ধান,ফুলকপি, বাধাকপি, ভুট্টা, গাজর, বিন্মস,আরো কত কিছু চাষ করে নিজের জীবন যাপন করছে,,, এই মানুষ গুলোর অনেকেই হিদী ভাষা টুকুও বলতে পারেন,, চারি দিকে মনমাতানো নাম না জানা পাখির ডাক আর হিমশীতল বাতাস নিয়ে সন্ধে নামে ঝিঝির ডাক আর জোনাকির আলোয়,, কি করে না ভালোবসে থাকা যায় এদের বলুনতো,,,আর এরাম শান্তি কোথায় আছে আমাদের কংক্রিটের জঙ্গলে,, আপনারাও যান একটু ঘুরে আসুন এই মানুষ গুলোর মাঝে,, শান্তি ভাষা টার একটা নতুন রূপ পাবেন

আপনাদের আমন্ত্রণ রইলো এই মানুষ গুলোর পক্ষ থেকে পেনাং গ্রামে🙏🙏











চুইখিম

চুইখিম বাগরাকোট থেকে লাভা লোলেগাঁও যাওয়ার পথে পাহাড়ের কোলে সবুজে ঢাকা একটি ছোট্ট গ্রাম হলো চুইখিম। শিলিগুড়ি থেকে ওথলাবাড়ির সাড়ে চার কিলোমিটা...