Friday, July 10, 2020

মুন্দিরা : একটি বাউল গ্রাম

    ছোটো থেকেই আমার একটা নেশা হল ঘোরা অবশ্যই তার জন্য বাড়ির লোকজন অনেক টাই দায়ী। বড় হবার সাথে সাথে এই নেশা টাই যে পেশা হয়ে যাবে তা কে জানত। তাই এই নেশা ও পেশার জন্য অনেক অনেক জায়গা ঘুরেছি, সেটা ভারত ও কিছু ক্ষেত্রে ভারতের বাইরেও। কিছু জায়গা  এমনও আছে যেখান থেকে আমরা ফিরে আসতে ইচ্ছা করে নি, তার মধ্যে একটি জায়গা মুন্দিরা মিউজিকাল ক্যাম্প.

     আমার আর একটা সখ হল বাইকে করে বেরিয়ে পরা এর একটা বড় ক্যান্ড করেছিলাম ২০১৯ ঠিক এই সময় দুই বন্ধু নেপাল চলে গিয়েছিলাম সে গল্পও কোন দিন টাইম হলে শোনাবো খন। অনেক দিন ধরেই এই জাইগা টার কথা শুনছিলাম তাই ঠিক করি এটা বাইকে যাব।একদিন সকাল সকাল  ৮.৩০ বেরিয়ে পরলাম বাড়ি থেকে যেহেতু এই রাস্তা আমার চেনা তাই বেশিক্ষণ সময় লাগল না শক্তিগড় আসতে ৯.৩০ মধ্যে চলে এলাম ,শক্তিগড় মানেই ল্যাংচা না আমি ল্যাংচা না খেয়ে সোজা পৌঁছলাম চায়ের দোকানে ব্যাপক চা করে এখানে ১ কাপ ছা খেয়ে এক্তু ওয়েট করে সজা চললাম  মুন্দিরা দিকে  ৩ ঘন্টায় সেখানে পৌঁছে গেলাম।সিঙ্গুর থেকে  ম্যাপ এ যে ১৪৭ কিলোমিটারের রাস্তা দেখছিলাম সেটা শেষ হলো. তবে বলে রাখি এখানে আসার ২ টি রস্তা আছে একটি সোজা দুর্গাপুর রোড ধরে বর্ধমান হয়ে পানাগর-মালঞ্ছদিহি-মুন্দিরা ( তবে এই পথে জয়দেব কেন্দুলি সেতু টি ভাঙ্গা তাই এটি গ্রামের মানুষেরা একটি বাঁশের ব্রিজ করেছেন সেটি পেরতে আপনাকে ১৫ টাকা করে দিতে হবে)। আর একটি বর্ধমান হয়ে - গুশকরা - ইলামবাজার হয়ে মুন্দিরা।তবে দ্বিতীয় পথে গাড়ির ভিড় টা বেশি হয়।

    যাবার আগে থেকেই বিজয় দা কে বলা ছিলো, দাদা সোজা নিয়ে চলে গেলো অজয় নদ এর ধারে, ক্যাম্প এ গিয়েই দেখা হলো  সাধু দাস, অনিমেষ এর সাথে যারা জয়গুরু বলে সম্বোধন করেন সবাই কে, ক্যাম্প এ পৌঁছে ই আপনার প্রথম ইচ্ছা হবে নদ এর পারে যেতে হবে, আপনাকে জানিয়ে রাখি এই ক্যাম্প এ আপনাকে ওয়েট করতে হবে না কখন কে দোতারা নিয়ে আসবে আর আপনাকে গান শোনাবে, এখানে এক আখরা তৈরি করা হয়েছে যেখানে সাধনা করে বাউলারা।লাঞ্চ করে আমি যখন গেলাম আখরা তে ততক্ষণ এ বাউলারা মেতে উঠেছিল নিজের ছন্দে। তেনারা এক গান দুই বার ধরবেন না, এদের সাথে কথা না বললে বুঝবেন না এই মানুষ গুলোর প্রায় বিদেশ থেকে ডাক পড়ে সঙ্গীত সাধনা এর জন্য।

     বিকেলের সূর্য নামতে নামতে ই কাঙ্গাল খাপা, সাধু দাস,  সনাতন বাবা, বাপি বাবা আর ও কিছু মানুষ এসে সেই যে বোল ধরলেন কখন যে চা এর কাপে চুমুক মারতে মারতে রাত 10 টা বেজে গেলো আমরা খেয়াল করি নি, হয়তো আমর জীবন এর সেরা সন্ধ্যা গুলোর মধ্যে এটা একটা, রাতে খাওয়ার পর পুরো জায়গা টা কেমন শান্ত হয়ে গিয়েছিলো, ক্যাম্প এর চারিদিকে মশাল এর মতো আলো আর নদ এর হাওয়া তে কিভাবে একটা ঘুম লেগে গেলো জানি না, আবার ভোর এ ঘুম ভাঙলো দোতরার টুং টুং আওয়াজ এ।

  আমরা সবাই যারা গীতগোবিন্দ অল্প হলে ও জানি তারা জানবেন যে কবি জয়দেব প্রেম এর কবি ছিলেন,এবং আমার মনে হয় তিনি সেই প্রেম এখনকার মানুষ, প্রকৃতি সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন. আমার মনে হয় আপনার যদি আর ও একবার প্রেম বুঝতে চান আসুন মুন্দিরা তে, আমি মন থেকে বলছি আপনি কিছু না কিছু নিয়ে আসতে পারবেন ওখান থেকে...!!

বিদ্রঃ তথ্য ও ছবি অয়ন...............                                                                  ................কলমে  দেব












No comments:

Post a Comment

Note: Only a member of this blog may post a comment.

চুইখিম

চুইখিম বাগরাকোট থেকে লাভা লোলেগাঁও যাওয়ার পথে পাহাড়ের কোলে সবুজে ঢাকা একটি ছোট্ট গ্রাম হলো চুইখিম। শিলিগুড়ি থেকে ওথলাবাড়ির সাড়ে চার কিলোমিটা...